দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে
বলে জানিয়েছে র্যাব। আত্মসমর্পণ করা অনেক চরমপন্থি সদস্য পুনরায় অপরাধমূলক
কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব
চৌধুরী।
রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল
পরিমাণ গোলাবারুদ এবং অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি প্রাইভেটকার জব্দ ও দুইজনকে
গ্রেপ্তার করার বিস্তারিত ঘটনা তুলে ধরে এসব কথা বলেন তিনি।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি পাবনা-কুষ্টিয়া এই অঞ্চলে চরাঞ্চল
রয়েছে। এই চরাঞ্চল দখল নিয়ে বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন
চরমপন্থি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হয়ে থাকে। এসব অস্ত্র এই
অঞ্চলের বালুমহালে আধিপত্য বিস্তারে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। অভ্যুত্থান-পরবর্তী
দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা
করছে।
‘সুন্দরবনে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুরাও আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন,
তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে’—জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশের আর্থসামাজিক
প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে সাধারণ মানুষের অপরাধ জগতের
বিচরণ ও প্রত্যাবর্তন। সুন্দরবনের জলদস্যুদের বিষয়টি আমরাও পরিলক্ষিত করেছি। আমাদের
গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে যে তথ্য পাচ্ছি তাতে এই ধরনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আমাদের তৎপরতা আগেও ছিল, এখনো আছে।
তিনি বলেন, আর যারা ইতোমধ্যে অপরাধে জড়িয়ে গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিভিন্ন সময়ে র্যাব এককভাবে আবার কখনো কখনো র্যাব, পুলিশ এবং কোস্ট গার্ড
সম্মিলিতভাবে নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবেও বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এসময় চরমপন্থি গ্রুপগুলোর সক্রিয় হওয়ার বিষয় তুলে ধরে যৌথ অভিযানে অংশ নেওয়া
র্যাব-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
দীর্ঘদিন ধরে সর্বহারা ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ চরমপন্থি সংগঠনের তৎপরতা ছিল।
২০২৩ সালে র্যাব-১২ এর উদ্যোগে প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল এবং
তাদের পুনর্বাসনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু আত্মসমর্পণকারী সদস্য আবারও পুরোনো
কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ কারণে তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি
বাড়ানো হয়। আমরা তাদের বিভিন্নভাবে মনিটর করতে থাকি এবং যার ফলস্বরূপ আজকে আমাদের
এই সফলতা এবং আমরা এগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ধারণা, নিষিদ্ধ যারা
চরমপন্থি আছে, তাদের হাতে এগুলো যাওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে— আমি ধারণা করছি।

























