জার্মান ফুটবল লিগে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও নাটকীয়
ম্যাচে কোনোমতে হার এড়িয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম এবং পরবর্তীতে
দলের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হলেও শেষ পর্যন্ত ১-১
গোলের সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা। অধিকাংশ সময় ১০ জন এবং শেষ দিকে
৯ জন নিয়ে লড়াই করেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে পারা বায়ার্নের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবেই
দেখা হচ্ছে।
ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বায়ার্ন মিউনিখ। ষষ্ঠ মিনিটে স্বাগতিক লেভারকুজেনকে
এগিয়ে দেন স্প্যানিশ মধ্যমাঠের খেলোয়াড় আলেইশ গার্সিয়া। গোল হজম করে পিছিয়ে পড়া
বায়ার্ন বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণে তেমন ধার দেখাতে পারছিল না। উল্টো
প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে সেনেগালের ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন প্রতিপক্ষের একজনকে
বিপজ্জনকভাবে বাধা দিলে ভিডিও প্রযুক্তির সহায়তায় রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড
দেখান। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে বিরতিতে যায় বায়ার্ন।
দ্বিতীয়ার্ধেও নাটকের শেষ ছিল না। ৬১ মিনিটে হ্যারি কেইন বল জালে পাঠিয়ে দলকে
উল্লাসে মাতালেও কিছুক্ষণ পরেই সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়। ভিডিও প্রযুক্তিতে দেখা
যায়, গোল করার আগে হ্যারি কেইনের হাতে বল লেগেছিল, ফলে গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
তবে বায়ার্ন হাল ছাড়েনি। ৬৯ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে
দলকে সমতায় ফেরান লুইস দিয়াস। সমতায় ফেরার পর যখন বায়ার্ন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক
তখনই ৮৪ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় গোলদাতা লুইস দিয়াসকে।
শেষ কয়েক মিনিট ৯ জন নিয়ে লেভারকুজেনের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হয়েছে বায়ার্নকে।
পুরো ম্যাচে লেভারকুজেন ১৮টি শট নিয়ে বায়ার্নকে ব্যতিব্যস্ত রাখলেও শেষ পর্যন্ত
রক্ষণভাগ আগলে রাখতে সক্ষম হয় সফরকারীরা। বায়ার্নের ১০টি শটের মধ্যে চারটি লক্ষ্যে
থাকলেও সেগুলো খুব একটা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারেনি। এই ড্রয়ের ফলে লিগ টেবিলের
শীর্ষস্থানটি আরও মজবুত করল বায়ার্ন মিউনিখ। ২৬ ম্যাচ শেষে ৬৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা
সবার উপরে রয়েছে, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সংগ্রহ ৫৮
পয়েন্ট।
























