বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী,
ব্যারাকপুরের সাবেক এমপি, বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীর নাম ঘোষণা করেছে দিল্লি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার (২৭ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে,
দীনেশ ত্রিবেদী শিগগিরই ঢাকা মিশনের দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
দীনেশ ত্রিবেদী যে হাই কমিশনার হয়ে ঢাকায় আসতে পারেন, সে খবর দুই সপ্তাহ আগেই
দিয়েছিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই ঘোষণা দিল নরেন্দ্র মোদির
সরকার।
এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন পর কোনো রাজনীতিবিদকে বাংলাদেশে হাই কমিশনারের দায়িত্ব দিল
ভারত। তিনি পেশাদার কূটনীতিক প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসা প্রণয়
ভার্মাকে ইতোমধ্যে বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ভারতের রাষ্ট্রদূত করার ঘোষণা
দেওয়া হয়েছে।
রাজনীতিতে অভিজ্ঞ ৭৫ বছর বয়সি দীনেশ ত্রিবেদীর সামনে এবার থাকবে দুই দেশের তিক্ততা
ঘুচিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের
ব্যাপক অবনতি হয়।
এরপর গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারত-বাংলাদেশের
সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ শুরু হয় দুই তরফেই।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো লিখেছে, দূরত্ব ঘোচানোর কূটনীতিতে দীনেশ ত্রিবেদী
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন বলে মনে করছে দিল্লি।
দীনেশ ঝরঝরে বাংলা বলেন এবং একজন দক্ষ সেতারবাদক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের
রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দুই বাংলার সংস্কৃতি সম্পর্কেও তিনি ভালো ধারণা রাখেন।
তকে হাইকমিশনার করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকারের জন্য নরেন্দ্র মোদির একটি ‘বিশেষ
বার্তা’ হিসেবেই দেখিয়েছে কোনো কোনো ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।
গুজরাটি দম্পতি হীরালাল ত্রিবেদী এবং উর্মিলাবেন ত্রিবেদীর ছোট ছেলে দীনেশ হিমাচল
প্রদেশের বোর্ডিং স্কুল থেকে পড়াশোনার পর কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে
কমার্সে স্নাতক ডিগ্রি পান। তারপর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ করেন।
আশির দশকে কংগ্রেসে যোগ দেন দীনেশ। কিন্তু ১৯৯০ সালে জনতা দলে চলে যান। ১৯৯০-৯৬
পর্যন্ত তিনি রাজ্যসভায় জনতা দলের সদস্য ছিলেন।
১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে সেই দলে যোগ দেন দীনেশ
ত্রিবেদী। তিনিই দলটির প্রথম সাধারণ সম্পাদক।
২০০২-০৮ পর্যন্ত রাজ্যসভায় তৃণমূলের এমপি ছিলেন দীনেশ। ২০০৯ সালে ব্যারাকপুর থেকে
তৃণমূলের হয়ে লোকসভা ভোটে প্রার্থী হন। ওই আসনে জিতে কেন্দ্রের মনমোহন সিংহ সরকারের
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী হন।
২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে সেই দায়িত্ব সামলান দীনেশ। পরে তাকে সেই দায়িত্ব
থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের নির্বাচনে ব্যারাকপুর থেকে আবারও তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন দীনেশ,
কিন্তু সেবার বিজেপির অর্জুন সিংয়ের কাছে হেরে যান। তারপর তৃণমূল তাকে আবার
রাজ্যসভায় পাঠায়। এরপর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় দীনেশের। শেষমেষ ২০২১
সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তৃণমূল থেকে পদত্যাগ করেন এবং ৬ মার্চ বিজেপিতে যোগ দেন।

























