ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির
নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক নতুন ও কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে দেওয়া এই ভাষণে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে,
যুক্তরাষ্ট্র আর এই জলপথের একক পাহারাদার হিসেবে থাকতে রাজি নয়। ট্রাম্পের মতে,
যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র এই পথ দিয়ে কোনো তেল আমদানি করে না এবং ভবিষ্যতেও করার
পরিকল্পনা নেই, তাই এখান থেকে যারা সুফল পায়, সেইসব আমদানিকারক দেশগুলোকেই এখন এই
প্রণালির পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বিশ্বমঞ্চের প্রধান শক্তিগুলোকে ইঙ্গিত করে বলেন
যে, যেসব দেশ তাদের জ্বালানি চাহিদার জন্য হরমুজ প্রণালির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল,
তাদের অবশ্যই এই প্রণালিকে সযত্নে রক্ষা করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে হবে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোর ওপর এক ধরণের
আন্তর্জাতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে বৈশ্বিক
জ্বালানি পথ সচল রাখার দায়ভার কেবল এককভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বর্তায় না।
সংঘাত পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভবিষ্যৎবাণী প্রদান করেছেন।
তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরান তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দেশ পুনর্গঠনের
তাগিদেই স্বেচ্ছায় হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বাধ্য হবে। তাঁর মতে, ইরানকে পুনরায়
ঘুরে দাঁড়াতে হলে এই পথ দিয়ে তেল বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না। সংঘাত
থামলে এবং জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম দ্রুত
কমে আসবে এবং বিশ্ব শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তবে ভাষণের সবচেয়ে নাটকীয় ও উদ্বেগজনক অংশ ছিল ইরানকে দেওয়া তাঁর সরাসরি সামরিক
হুমকি। ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, আগামী দুই সপ্তাহ মার্কিন বাহিনী ইরানে নজিরবিহীন
ও বিধ্বংসী হামলা চালাবে। তিনি তেহরানের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এক চূড়ান্ত
আলটিমেটাম জারি করে বলেন, এই ১৪ দিনের মধ্যে যদি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত
অনুযায়ী নতুন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশটির প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন
কেন্দ্র বোমা মেরে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারি ও ‘বিদ্যুৎহীন ইরান’ গড়ার হুমকি
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ভাষণ একদিকে যেমন জলপথের নিরাপত্তার দায়ভার
অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা, অন্যদিকে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি সর্বাত্মক
রণকৌশল। তেহরান এই দুই সপ্তাহের আলটিমেটামের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, এখন সেটিই
দেখার বিষয়। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এখন এক চরম
অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে।
























