চলতি ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনের স্মার্টফোন বাজারে বড়
ধরণের চমক দেখিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান
‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বৈশ্বিক নানাবিধ চ্যালেঞ্জ
সত্ত্বেও চীনে আইফোনের সরবরাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে চলমান অস্থিরতা ও সরবরাহ চেইনের সংকটের মাঝে অ্যাপলের এই
প্রবৃদ্ধি প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের মূল্যবৃদ্ধি এবং
লজিস্টিক সমস্যার কারণে চীনের সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজার গত এক প্রান্তিকে প্রায় ৪
শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতার মাঝেও অধিকাংশ ব্র্যান্ড
যেখানে লোকসানের মুখে পড়েছে, সেখানে অ্যাপল এবং চীনের নিজস্ব ব্র্যান্ড হুয়াওয়ে
তাঁদের সরবরাহের পরিমাণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী
ব্যবহারের সুবিধা এবং উন্নত কারিগরি মানের কারণে চীনা গ্রাহকদের বড় একটি অংশ এখন
প্রথাগত ফোনের চেয়ে আইফোনের মতো প্রিমিয়াম ডিভাইসের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। গ্রাহকদের
এই পরিবর্তিত রুচিই মূলত অ্যাপলকে বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
বর্তমান বাজার হিস্যা অনুযায়ী, চীনের স্মার্টফোন বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা লক্ষ্য
করা যাচ্ছে। ২০ শতাংশ বাজার দখল করে বর্তমানে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে হুয়াওয়ে।
অন্যদিকে, মাত্র ১ শতাংশের ব্যবধানে অর্থাৎ ১৯ শতাংশ বাজার হিস্যা নিয়ে দ্বিতীয়
স্থানে রয়েছে অ্যাপল। হুয়াওয়ে এবং অ্যাপল যখন নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে, তখন শাওমি
ও অপোর মতো অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য সময়টি বেশ কঠিন যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, আলোচিত এই সময়ে শাওমি ও অপোর মতো ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রি ও সরবরাহ
উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, স্মার্টফোন বাজার
সংকুচিত হওয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকদের ক্রমবর্ধমান
আস্থা বাজারের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত ও সচেতন গ্রাহকরা ফোনের
স্থায়িত্বকে বেশি প্রাধান্য দেওয়ায় আইফোনের চাহিদা উর্ধ্বমুখী রয়েছে। আপাতত চীনের
বিশাল বাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে অ্যাপল ও হুয়াওয়ের মধ্যকার এই লড়াই আগামী
দিনগুলোতে আরও তীব্র হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের
মাঝেও চীনের বাজারে আইফোনের এই ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অ্যাপলের জন্য এক বড় ধরণের
স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।























