টানা চার ম্যাচে জয়হীন থাকার পর অবশেষে জয়ের ধারায় ফিরেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল
মাদ্রিদ। মঙ্গলবার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে তারা ২-১ ব্যবধানে
হারিয়েছে আলাভেসকে। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিউস জুনিয়রের গোলে এই গুরুত্বপূর্ণ
জয়ের মাধ্যমে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কিছুটা
কমিয়ে আনল লস ব্লাঙ্কোসরা। সাম্প্রতিক সময়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় এবং লিগে
পয়েন্ট হারানোর পর এই জয়টি রিয়াল শিবিরের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য রিয়ালের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথম দিকে আলাভেস বেশ
কয়েকবার স্বাগতিকদের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে, যা বার্নাব্যুর দর্শকদের মধ্যে কিছুটা
অস্থিরতা তৈরি করেছিল। তবে ম্যাচের ৩০ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার
নেওয়া একটি শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে লিড
পায় রিয়াল। ফেব্রুয়ারির পর লা লিগায় এটিই ছিল ফরাসি তারকার প্রথম গোল, যা চলতি
মৌসুমে তার মোট গোলসংখ্যাকে ২৪-এ নিয়ে গেছে।
বিরতির ঠিক আগে রিয়াল মাদ্রিদের জন্য কিছুটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় ডিফেন্ডার
এদের মিলিতাওয়ের চোট। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লেও ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক
ধারণা অনুযায়ী তার এই সমস্যা খুব একটা গুরুতর নয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ৫০ মিনিটে
ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস জুনিয়র। দীর্ঘ ছয় ম্যাচ গোলখরায় থাকার পর এই
ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড চমৎকার এক দূরপাল্লার শটে গোল করে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে
ফেলেন। ম্যাচের ইনজুরি সময়ে আলাভেস একটি গোল শোধ করলেও তা রিয়ালের পুনরুত্থান
আটকাতে পারেনি।
এই জয়টি রিয়ালের জন্য মানসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর আগে তারা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল
এবং লা লিগায় জিরোনা ও মায়োর্কার বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে তলানির দিকে থাকা আলাভেসের জন্য এটি আরও একটি হতাশার রাত হিসেবে গণ্য
হচ্ছে; গত ৯ ম্যাচের মধ্যে তারা মাত্র একটিতে জয় পেয়েছে। এই পরাজয়ের ফলে লিগের
অবনমন অঞ্চলের চাপ তাদের ওপর আরও বৃদ্ধি পেল।
বর্তমানে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় ৩২ ম্যাচ শেষে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে
অবস্থান করছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্যদিকে এক ম্যাচ কম খেলে ৭৯ পয়েন্ট নিয়ে এখনো
ধরাছোঁয়ার বাইরে শীর্ষে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। লিগের শিরোপা লড়াই
এখনো বার্সার অনুকূলে থাকলেও, টানা ব্যর্থতার পর রিয়ালের এই জয় লিগের বাকি
ম্যাচগুলোকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। আগামী ম্যাচগুলোতে রিয়ালের
লক্ষ্য থাকবে এই জয়ের ধারা বজায় রেখে বার্সেলোনার ওপর চাপ সৃষ্টি করা।























