পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) এক অবিস্মরণীয় ইতিহাসের জন্ম দিল নবাগত দল
হায়দরাবাদ কিংস মেন। শুক্রবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয়
এলিমিনেটর ম্যাচে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডকে ২ রানের ক্ষুদ্র
ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেছে মার্নাস লাবুশেনের দল। আসরের শুরুতে
টানা ৪ হারে খাদের কিনারায় চলে যাওয়া হায়দরাবাদ শেষ ৮ ম্যাচের ৭টিতেই জিতে অভাবনীয়
প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে পা রাখল। অভিজ্ঞ প্রতিপক্ষের
বিপক্ষে এই রুদ্ধশ্বাস জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৮৬
রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায় হায়দরাবাদ। দলের হয়ে ওপেনিংয়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং
করেন উসমান খান; তিনি মাত্র ৩০ বলে ১০টি চারের সাহায্যে ৬১ রান করেন। এছাড়া অধিনায়ক
লাবুশেন ৩৯, সাইম আইয়ুব ৩৮ এবং কুশল পেরেরা ৩৭ রান করে দলের লড়াকু পুঁজিতে বড় অবদান
রাখেন। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের ব্যাটসম্যানরা আক্রমণাত্মক শুরু করলেও
হায়দরাবাদের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়।
১৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইসলামাবাদের মার্ক চাপম্যান ৪৩ এবং হায়দার
আলি ৩১ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়েছিলেন। ম্যাচের শেষ দিকে উত্তেজনা
চরমে পৌঁছায় যখন শেষ দুই ওভারে সমীকরণ দাঁড়ায় ২৮ রান। ১৯তম ওভারে ফাহিম আশরাফের
বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২২ রান তুলে নিলে জয় প্রায় হাতের নাগালে চলে আসে ইসলামাবাদের।
শেষ ওভারে জয়ের জন্য মাত্র ৬ রান প্রয়োজন ছিল, কিন্তু ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আসেন নাসিম
শাহ’র ছোট ভাই হুনাইন শাহ।
নাটকীয় শেষ ওভারে হুনাইন শাহ অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। জয়ের জন্য ৬ রানের সহজ
লক্ষ্য থাকলেও তিনি মাত্র ৩ রান দিয়ে ফাহিম আশরাফের গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি শিকার করে
জয় ছিনিয়ে আনেন। হুনাইনের নিখুঁত ইয়র্কার ও গতির কাছে ইমাদ ওয়াসিমরা রান তুলতে
ব্যর্থ হলে উল্লাসে ফেটে পড়ে হায়দরাবাদ শিবির। এছাড়া ফিল্ডিংয়ে হাসান খানের একটি
নিশ্চিত ছক্কা বাঁচিয়ে দেওয়ার ঘটনাটিও জয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। অবিশ্বাস্য এই
বীরত্বগাথা বোলিং স্পেলের জন্য ২২ বছর বয়সী হুনাইন শাহ ম্যাচসেরার পুরস্কার লাভ
করেন।
এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর আগামী রোববার আসরের শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ম্যাচে
পেশোয়ার জালমির মুখোমুখি হবে হায়দরাবাদ কিংস মেন। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে খেই
হারিয়ে ফেলা একটি দল যেভাবে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল, তা
পিএসএলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা কামব্যাক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এখন ক্রিকেট
বিশ্বের নজর রোববারের ফাইনালের দিকে, যেখানে অভিজ্ঞ বাবর আজমদের বিপক্ষে নবাগত
হায়দরাবাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াই হবে।
























