ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সাম্প্রতিকতম ও অত্যন্ত শক্তিশালী আকাশপথের
হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে দাঁড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি-এর প্রতিবেদন
অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার চালানো এই ভয়াবহ অভিযানে আরও অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ শুক্রবার ভোরে জানিয়েছে যে, মস্কোর অব্যাহত আগ্রাসন
নিরসনের যে ক্ষীণ সম্ভাবনা ছিল, এই নৃশংস হামলার ফলে তা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কিয়েভজুড়ে বারবার বিমান হামলার
সাইরেন বেজে উঠলে জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা ধরে আকাশে তীব্র
বিস্ফোরণের শব্দ ও আলোর ঝলকানি দেখা যায়, যার ফলে নগরবাসী নিরাপত্তার খোঁজে মেট্রো
স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, কিয়েভকে
লক্ষ্য করে রাশিয়া ৬৭৫টি ড্রোন এবং ৫৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে
দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৬৫২টি ড্রোন এবং ৪১টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে
সক্ষম হলেও কিছু আঘাত লক্ষ্যভেদ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে কিয়েভের বাসিন্দা আন্দ্রিই এএফপিকে বলেন,
‘চারপাশে সবকিছু আগুনে পুড়ছিল। মানুষ আতঙ্কে চিৎকার করতে করতে দৌড়াচ্ছিল।’ রক্তের
দাগ মাখা শার্ট পরে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি এই লোমহর্ষক
বর্ণনা দেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাজধানীর অন্তত
২০টি স্থাপনা এই হামলার শিকার হয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ মানুষের আবাসন ছাড়াও স্কুল
এবং ভেটেরিনারি ক্লিনিক রয়েছে।
সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র
হামলায় বিধ্বস্ত ভবনটির স্থানে এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে
একটি আবাসিক ভবনের প্রথম তলা থেকে নবম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।’ পুলিশ
সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন, যার
মধ্যে তিনজন নারী, তিনজন পুরুষ এবং একজন কিশোরী রয়েছেন। জরুরি পরিষেবা বিভাগ
পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছে যে, নিহতের সংখ্যা ২১ জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে অন্তত
তিনটি শিশু রয়েছে।

























